ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের বাস্তব গল্প

ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের বাস্তব গল্প আজকে আমি আপনাদেরকে শোনাবো। ক্যারিয়ার আর পরিবার, দুটোই জীবনের অমূল্য অংশ। তাহলে আপনি কোন দিকে যাবেন?

ফ্রিল্যান্সিং-নাকি-ফ্যামিলি-জীবনের-সবচেয়ে-বড়-দ্বন্দ্বের-বাস্তব-গল্প
আপনি কোন দিকে বেশি ঝুঁকছেন? চলুন জেনে নিই। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৭০% ফ্রিল্যান্সার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। ৮৫% মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এবং ফ্যামিলি এর মাঝে ব্যালেন্স চায়। ৬০% মানুষ পরিবারকে সময় দিতে পারে না।

সূচিপত্রঃ প্রিয় পাঠক আপনার যেখান থেকে পড়তে মনে চায় পছন্দ অনুযায়ী পড়া শুরু করুন!

ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের বাস্তব গল্পের আজকে আমরা জানবো আসলেই কি ফ্রিল্যান্সিং অথবা ফ্যামিলি এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়া সম্ভব? আমরা, আমি বা আপনি বা পৃথিবীর সকল ফ্রিল্যান্সার যারা অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে তারা কার জন্য কাজ করে? শুধু কি নিজের জন্য? নাকি তার প্রিয় মানুষ তার আপনজনের জন্য? সবকিছুই জানবো এই গল্পের মাধ্যমে।

একটি বাস্তব গল্প

আমাদেরই মত এক ভাই আরিফ মাহমুদ তার নিজের জীবন থেকে এটি শেয়ার করেছিল। আর আমি আপনাদের মাঝে এটা উপস্থাপন করছি।

রাত ২টা বাজে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে আছি। ক্লায়েন্টের ডেডলাইন আগামীকাল সকাল ১০টা। পাশের ঘর থেকে ছেলের কান্নার আওয়াজ আসছে। স্ত্রী উঠে গেল ছেলেকে ঘুম পাড়াতে। আমি কিবোর্ডে আঙুল চালিয়ে যাচ্ছি। এই দৃশ্য প্রতিরাতের। গত তিন বছর ধরে।
Freelancing শুরু করেছিলাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে। স্বাধীনতার স্বপ্ন। নিজের মতো কাজ করার স্বপ্ন। ঘরে বসে অনলাইন থেকে ডলারে আয় করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এখন সত্যি হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমছে। কিন্তু...............কিছু একটা যেন নেই..........সেটা কি?

আমার ছোট্ট সোনা বাবুটার একটাই প্রশ্ন? বাবা, তুমি কবে আমার সাথে খেলবে? তোমার ল্যাপটপ কি আমার চেয়ে বেশি ভালো?

পাঁচ বছরের ছেলের এই প্রশ্ন শুনে বুকটা ভেঙে গিয়েছিল সেদিন। কী জবাব দেব? বলব যে বাবা ক্লায়েন্টের কাজ করছে? বলব যে এই ল্যাপটপের জন্যই তোমার স্কুলের ফি দিতে পারছি?

শুরুর গল্প

২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। করোনার সময়। অফিসে যেতে পারছিলাম না, বেতন কমে গিয়েছিল। বন্ধু জাহিদের কাছে শুনলাম ফ্রিল্যান্সিং থেকে ইনকাম এর কথা। সে Fiverr-এ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে অনলাইন থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছে। আমিও শিখলাম। রাত জেগে জেগে কোর্স করলাম। প্র্যাক্টিস করলাম।

প্রথম অর্ডার পেতে তিন মাস লেগেছিল। মাত্র ৫ ডলারের কাজ। কিন্তু সেই অনলাইন থেকে ৫ ডলার ইনকাম এর যে আনন্দ হয়েছিল, সেটা বর্ণনা করা যায় না। মনে হয়েছিল, পৃথিবী জয় করে ফেলেছি।

আমার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি

৩+ বছর অভিজ্ঞতা,২৫০+প্রজেক্ট, ৫ ⭐রেটিং, সাফল্যের মূল্য ধীরে ধীরে কাজ বাড়তে লাগল। রেটিং বাড়ল। অনলাইন ইনকাম বাড়ল। এক বছরের মধ্যে অনলাইন থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করতে শুরু করলাম। বাবা-মা খুশি। শ্বশুর-শাশুড়ি খুশি। আমাদের জামাই বিদেশিদের কাজ করে এই গর্ব তাদের মুখে।
  • কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে কত কী যে দিয়েছি তা কেই জানেনা 
  • ছেলের প্রথম হাঁটা দেখিনি  ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলাম
  • বিয়ের বার্ষিকী ভুলে গিয়েছিলাম  ডেডলাইনে ছিলাম
  • মায়ের অসুখে হাসপাতালে যেতে পারিনি  আর্জেন্ট প্রজেক্ট ছিল
  • স্ত্রীর সাথে শেষ কবে বাইরে খেতে গেছি মনে নেই
অনলাইন থেকে টাকা আসছে ঠিকই। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কী কিনছি? নতুন ফোন, নতুন ল্যাপটপ, এসি, ফ্রিজ কিন্তু এগুলো কি আসলে দরকার ছিল?

টার্নিং পয়েন্ট

গত মাসে একটা ঘটনা ঘটল। রাত ৩টায় কাজ করছিলাম। হঠাৎ বুকে ব্যথা। শ্বাস নিতে কষ্ট। স্ত্রী জেগে গেল। হাসপাতালে নিয়ে গেল। ডাক্তার বললেন  প্যানিক অ্যাটাক। স্ট্রেস এবং ঘুমের অভাব থেকে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে ভাবলাম এই জীবন কি আমি চেয়েছিলাম? স্বাধীনতার জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম, কিন্তু এখন ক্লায়েন্টের গোলাম হয়ে গেছি। ২৪/৭ অনলাইন থাকতে হয়। যেকোনো সময় মেসেজ আসতে পারে। যেকোনো সময় কাজ করতে হতে পারে।

এই কথা ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কানে আসলো, তুমি আমাদের জন্য টাকা আনছ, কিন্তু নিজেকে তো শেষ করে দিচ্ছো। আমরা টাকা চাই না, তোমাকে চাই। আমার বেডের পাশে বসে আমার স্ত্রী কান্না করছে আর এই কথাগুলো বলতেছিল, এই কথাটা আমাকে নাড়িয়ে দিল। বুঝলাম, আমি ভুল করছি। টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনকে হারিয়ে ফেলছি।

নতুন শুরু

হাসপাতাল থেকে ফিরে কিছু সিদ্ধান্ত নিলাম:
  • রাত ১০টার পরে আর কাজ করব না
  • শুক্রবার পুরোটা পরিবারের জন্য
  • প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা ছেলের সাথে খেলব
  • মাসে একবার স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে যাব
  • কম টাকায় কম কাজ, কিন্তু বেশি জীবন

সিদ্ধান্তের ফলাফল

প্রথম মাসে অনলাইন ইনকাম কমেছে ৩০%। কিছু বিদেশি ক্লায়েন্ট চলে গেছে। কিন্তু গতকাল ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল বাবা, আজকে তুমি আমার সাথে ক্রিকেট খেলেছ, আমি অনেক খুশি! স্ত্রী হাসছিল। এই হাসি কত দিন দেখিনি!

বাস্তবে আমি যা শিখেছি

ফ্রিল্যান্সিং এবং ফ্যামিলি  দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যালেন্স রাখতে হবে। টাকা দিয়ে সময় কেনা যায় না। যে মুহূর্তগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো আর ফিরে আসবে না। আজ ছেলে ৫ বছরের, কাল সে ১৫ বছরের হয়ে যাবে। এই ১০টা বছর যদি আমি তার পাশে না থাকি, তাহলে সব টাকাই বৃথা।

বর্তমান কর্মব্যস্ত ইন্টারনেটের এই  সময়ে এসে সকলেই পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে বেছে নিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল এর কারণ কি? বর্তমান সময়ে তো অনেক চাকরি অনেক ব্যবসা অনেক কর্মক্ষেত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাহলে মানুষ কেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে? ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে যে সমস্ত সুবিধা গুলো আমি খুজে পেয়েছি বা যে কারণে মানুষ Freelancing এর দিকে বেশি ঝুঁকছে তার কারণ হলোঃ

ফ্রিল্যান্সিং-নাকি-ফ্যামিলি-জীবনের-সবচেয়ে-বড়-দ্বন্দ্বের-বাস্তব-গল্প

  • আনলিমিটেড আয়ের সুযোগ
  • ডলারে ইনকাম এবংনিজের রেট নিজে ঠিক করা যায়।
  • যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যায়
  • ঘরে বসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায়।
  • নিজের সময় নিজে সেট করে কাজ করা যায়
  • সকালে না রাতে কাজ করবেন, নিজের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে।
  • ইচ্ছা থাকলে আর পরিশ্রম করলে দ্রুত স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়
  • প্রতিটি প্রজেক্ট থেকে নতুন কিছু শেখা যায়।
  • নিজের বস নিজে মানে বাড়তি কোন বসের ঝারি শোনা লাগেনা।
  • কোনো অফিস পলিটিক্স নেই, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়া যায়।
  • আনলিমিটেড গ্রোথ করা সম্ভব।
  • অনলাইন এজেন্সি বানিয়ে ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং টিম তৈরি করে ইনকাম, তাছাড়া ও অনেক বড় পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যায়।

আবার আমাদের মধ্যে অনেকে এরকম আছে যারা ফ্যামিলিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফ্যামিলিকে প্রাধান্য দেয়ার পেছনে অনেক বিষয় লুকায়িত থাকে। যেমনঃ

ফ্রিল্যান্সিং-নাকি-ফ্যামিলি-জীবনের-সবচেয়ে-বড়-দ্বন্দ্বের-বাস্তব-গল্প

  • মানসিক শান্তি
  • পরিবারের ভালোবাসা সকল ধরনের স্ট্রেস কমায়।
  • সন্তানের সাথে সুসম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক,বেড়ে ওঠে।
  • প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য, যা আর কখনো ফিরে পাবেন না।
  • সুখ শান্তির একটি স্থিতিশীলতা বিরাজ করে।
  • পরিবার মানেই একটি নিরাপদ ঘাঁটি।
  • পরিবারের সাথে সম্পর্ক রক্ষা পায়
  • পরিবারকে সময় না দিলে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়।
  • পরিবার থেকেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় যা আর পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় না।
  • টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তা পরিবার দেয়।
  • পরিবারের সাথে থাকলে বাবা-মায়ের সেবা করা যায়।
  • বাবা-মা আমাদের জন্য সব করেছেন, তাদের হক কিছু হলেও আদায় হয়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে যে শুধু সুবিধায় বিদ্যমান তা কিন্তু নয়। এর কিছু অসুবিধা বা চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেগুলো প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারের জীবনে স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়। যেমনঃ

অনিশ্চিত আয়, এই মাসে আছে, পরের মাসে নেই।
কোনরকম বিশ্রাম নেই সীমাহীন কাজের চাপে একজন ফ্রিল্যান্সার মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে
একা কাজ করতে করতে বিরক্ত লাগে। জীবনে একাকীত্ব নেমে আসে।
অধিক পরিশ্রম এবং রাত জাগার কারণে বিভিন্ন রকমের রোগ ব্যাধি শরীরের মধ্যে বাসা বাঁধে।

আপনার ফ্যামিলি বা পরিবার সবসময়ই যে আপনার জন্য সুখ বয়ে নিয়ে আসবে সব সময়ই আপনাকে আনন্দ দেবে তা কিন্তু নয়। ফ্যামিলি এবং পরিবার থেকে কিছু কিছু বিষয়ে এমন থাকে যা আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে। যেমনঃ

স্বাধীনতা কম থাকে। আপনি ইচ্ছা করলেই যে কোন কাজ করতে পারবেন না। কোন কাজ করার আগে সব সময় পরিবারের কথা ভাবতে হয়।

পরিবারের সকলের চাহিদা পূরণের জন্য সকলকে সুখে রাখার জন্য সকলের দায়িত্ব আপনার কাঁধে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে আপনি মানসিকভাবে একটু চাপ অনুভব করতে পারেন।

পরিবারের সাথে বেশি সময় থাকলে আপনার খরচ একটু বেশি হতে পারে বিভিন্ন সময় ঘুরতে যাওয়া বিভিন্ন সময় এটা মোটা খাওয়া-দাওয়া করা এগুলো।

রবিবারকে সময় দিতে গেলে আপনার নিজের জন্য  কোনো সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এত কিছুর পরেও এই কমেন্টগুলো পড়লে আপনি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন বলে আমি আশা করি। এগুলো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কমেন্ট সেকশন থেকে কপি করা। যেগুলো কোন না কোন ফ্রিল্যান্সার তার বাস্তব জীবন থেকে লিখে গেছেন। এবং তারা পুরোটা সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ে দিতে গিয়ে যে শিক্ষা পেয়েছেন তা তারা তাদের নিজের মত করে ব্যক্ত করেছেন।

রাফি, ওয়েব ডেভেলপার

আমি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম পরিবারকে ভালো জীবন দিতে। কিন্তু এক সময় দেখলাম, সেই পরিবারকেই সময় দিতে পারছি না। এখন আমি দিনে ছয় ঘণ্টা কাজ করি, বাকিটা পরিবারের।

শিক্ষা: পরিবারের জন্যই কাজ করছি, তাদের ভুলে গেলে কাজের কোনো মানে নেই।

তানিয়া, গ্রাফিক ডিজাইনার

বাচ্চা হওয়ার পর মনে হয়েছিল ক্যারিয়ার শেষ। কিন্তু আমি রাতে বাচ্চা ঘুমালে দুই থেকে তিন ঘণ্টা কাজ করতাম। এখন আমার মাসিক আয় ছয় ফিগার।

শিক্ষা: সময় কম থাকলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে। কোয়ালিটি বড়, কোয়ান্টিটি না।

করিম ভাই, ডিজিটাল মার্কেটার

আমি তিন বছর দিন-রাত কাজ করে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে অনেক টাকা আয় করেছি। কিন্তু একদিন বাচ্চা বলল, বাবা, তুমি তো কখনো আমার সাথে খেলো না। সেদিন থেকে সব বদলে গেছে।

শিক্ষা: টাকা আবার আয় করা যায়, কিন্তু সন্তানের শৈশব ফিরে আসে না।

সময়ানুবর্তিতা এই কথাটি শুধু শুনে এসেছেন এবার আপনার জীবনে এই কথাটির বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের  সমাধানের জন্য।

অনেকেই মনে করে, অনলাইনে যে যত বেশি  ঘণ্টা ধরে কাজ করবে আর তত বেশি অনলাইন ইনকাম হয় । এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কাজের পিছনে সময় বেশি না দিয়ে কাজের ধরন পাল্টান। স্মার্ট ওয়ার্ক করুন। অটোমেশন, টেমপ্লেট, এআই টুলস ব্যবহার করুন।

সময় করণীয় উদ্দেশ্য প্রো টিপস
সকাল ৬:০০ ঘুম থেকে উঠা এবং ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম শরীর ও মনকে সতেজ রাখা মোবাইল হাতে না নিয়ে প্রথমে পানি পান করুন।
সকাল ৭:০০ পরিবারের সাথে নাস্তা পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় নাস্তার সময় কাজের কথা না বলাই ভালো।
সকাল ৮:০০ বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো পরিবারের দায়িত্ব পালন পরিবারের সঙ্গে কয়েক মিনিট সময় কাটান।
সকাল ৯:০০ ডিপ ওয়ার্ক শুরু, সবচেয়ে কঠিন কাজ আগে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা Pomodoro Technique ব্যবহার করতে পারেন।
দুপুর ১২:০০ পরিবারের সাথে দুপুরের খাবার মানসিক চাপ কমানো খাবারের সময় ল্যাপটপ বা ফোন দূরে রাখুন।
দুপুর ১:০০ ২০ মিনিট পাওয়ার ন্যাপ শক্তি পুনরুদ্ধার ২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না।
দুপুর ১:৩০ ক্লায়েন্ট মিটিং ও হালকা কাজ যোগাযোগ ও ফলো-আপ মিটিং এর আগে একটি টু-ডু লিস্ট তৈরি করুন
বিকাল ৪:০০ বাচ্চাদের সাথে খেলা বা সময় কাটানো পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করা মোবাইল দূরে রেখে পুরো মনোযোগ দিন।
বিকাল ৫:০০ ইমেইল চেক ও ছোট কাজ দিনের কাজ গুছিয়ে শেষ করা নির্দিষ্ট সময়েই ইমেইল দেখুন।
সন্ধ্যা ৬:৩০ পরিবারের সাথে হাঁটতে যাওয়া স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তি ২০–৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন।
রাত ৮:০০ রাতের খাবার ও গল্প পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় টিভি বন্ধ রেখে একসাথে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
রাত ৯:৩০ পড়াশোনা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ার উন্নয়ন প্রতিদিন অন্তত ৩০–৬০ মিনিট নতুন কিছু শিখুন।
রাত ১০:৩০ ঘুম পর্যাপ্ত বিশ্রাম ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।

ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের মোকাবেলায় আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ। আমরা কি করতে পারি, যারা Fiverr, Upwork. Freelancer.com, Youtube, Facebook ইত্যাদি অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে টাকা ইনকাম করে থাকি । গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের সমাজে ৩ ধরনের লোক খুঁজে পাওয়া যায়।

হার্ডকোর ক্যারিয়ার ফোকাসড ফ্রিল্যান্সার

আপনি পুরোপুরি ক্যারিয়ার-ফোকাসড। আপনার জীবনে ফ্রিল্যান্সিং সবকিছুর উপরে। আয় বাড়ানো, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট, এগুলোই আপনার প্রায়োরিটি। কিন্তু মনে রাখবেন, পরিবার ছাড়া সফলতার কোনো মানে নেই। কাজের দিকে একটু বেশি ঝুঁকেছেন। আপনি কাজকে প্রায়োরিটি দেন, কিন্তু পরিবারকেও পুরোপুরি ভোলেননি। আপনি সঠিক পথেই আছেন, শুধু একটু বেশি সময় পরিবারকে দিলেই পারফেক্ট ব্যালেন্স হয়ে যাবে।

পরামর্শ:  প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা পরিবারকে দিন। রাতে ল্যাপটপ বন্ধ রাখুন। সপ্তাহে এক দিন ফ্যামিলি ডে রাখুন। পরিবারের সাথে আপনার কাজ শেয়ার করুন। কাজের সময় ফিক্স করুন, যেমন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা। ক্লায়েন্ট কম নিন, কোয়ালিটি বাড়ান। পরিবারের সাথে ছুটির প্ল্যান আগে থেকে করুন। নিজের জন্যও সময় রাখুন।

ফ্যামিলি বা পরিবার-ই সবকিছু 

আপনার ফ্যামিলি বা পরিবারই আপনার প্রায়োরিটি। আপনি পরিবারকে সবার উপরে রাখেন। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ক্যারিয়ারেও একটু ফোকাস দিলে পরিবারকে আরও বেশি সুখী করতে পারবেন। আপনি একশো শতাংশ ফ্যামিলি পারসন। আপনার কাছে পরিবারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। এটি সত্যিই সুন্দর। কিন্তু আর্থিক স্বাধীনতার জন্য ফ্রিল্যান্সিং-এ একটু সময় দিলে পরিবারকে আরও ভালো জীবন দিতে পারবেন।

পরামর্শ: ছোট করে শুরু করুন, দিনে এক ঘণ্টা। সহজ স্কিল দিয়ে শুরু করুন। পরিবারকে আপনার স্বপ্নের কথা জানান। পরিবারের সাপোর্ট নিয়ে কাজ করুন। দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা ফোকাসড কাজ করুন। প্যাসিভ ইনকামের পথ খুঁজুন। নতুন স্কিল শিখতে পরিবারকে সাথে রাখুন।ফোনেও অনেক কাজ করা যায়। 

পারফেক্ট ব্যালেন্সার

আপনি দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেন। অভিনন্দন! আপনি সেই বিরল মানুষদের একজন যারা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার আর পরিবার, দুটোকেই সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করতে পারেন। আপনি অনেকের অনুপ্রেরণা।

পরামর্শ: এই ব্যালেন্স ধরে রাখুন। রুটিন ফলো করুন। অন্যদের সাথে আপনার টিপস শেয়ার করুন। নিজেকে পুরস্কৃত করুন। ব্যালেন্সই হলো আসল সফলতা। ফ্রিল্যান্সিং আর ফ্যামিলি, দুটোই জীবনের অপরিহার্য অংশ। কোনোটাকে বাদ দিয়ে নয়, দুটোকে একসাথে নিয়েই এগিয়ে চলুন।

ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের বাস্তব গল্প এই পোস্টটিতে আমি যা প্রকাশ করতে চেয়েছি তা অনেকের কাছে পছন্দ হতেও পারে আবার  নাও হতে পারে। 
আমি জানি, অনেকেই এই লেখা পড়ে বলবেন যে, কথা বলা সহজ। কিন্তু অনলাইন ইনকাম কমালে সংসার চলবে কীভাবে?

আমিও নিজেকে সেই একই প্রশ্ন করতাম। কিন্তু এখন বুঝেছি  সংসার চালানোর জন্য যতটুকু অর্থ বা টাকা-পয়সা দরকার, ততটুকু ইনকামই যথেষ্ট। বাকিটা লোভ। সেই লোভের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনটাকে নষ্ট করে দিচ্ছি।

ফ্রিল্যান্সিং খারাপ না। এটা একটা দারুণ পেশা। কিন্তু এটাকে পুরো জীবন বানিয়ে ফেললে সমস্যা। কাজের বাইরেও একটা জীবন আছে। পরিবার আছে। বন্ধু আছে। শখ আছে। স্বপ্ন আছে।

ফ্রিল্যান্সিং নাকি ফ্যামিলি? জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের নিরসনের ক্ষেত্রে আমার উত্তর - দুটোই। কিন্তু সঠিক ব্যালেন্সে।

আপনার জীবনেও কি এই দ্বন্দ্ব আছে? কমেন্টে জানান। হয়তো একসাথে সমাধান খুঁজে বের করতে পারব।

(হাবিবুর রহমান)

ডিজিটাল মার্কেটার ও কন্টেন্ট রাইটার

নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছি। জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ভালোবাসি। ভুল থেকে শিখি, শেখা থেকে লিখি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Habib Zone এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url